কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ এ ০৩:২৫ PM
কন্টেন্ট: পাতা
মৎস্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অর্জনসমূহ
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি, বিপুল জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান (মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশের অধিক), রপ্তানী আয় বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সর্বোপরি দারিদ্র দূরীকরণে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদের. সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও উন্নয়নে মৎস্য অধিদপ্তর প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশজ মোট উৎপাদন তথা জাতীয় জিডিপি'র ৩.৫৭ শতাংশ এবং মোট কৃষিজ আয়ের ২৫.৩০ শতাংশ মৎস্য উপখাত থেকে আসে (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০১৮) যার অর্থমূল্যে অবদান ৬০ হাজার কোটি টাকার অধিক। বিগত দশকে মৎস্য খাতে. জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬.২৬ শতাংশ, যা বেশ উৎসাহব্যঞ্জক ও স্থিতিশীল। দেশের রপ্তানি আয়েও এখাত রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৬৮৩০৫.৬৮ মে.টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানী করে ৪,২৮৭.৬৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে প্রাণিজ আমিষের ৬০ শতাংশ যোগান দেয় মাছ। বিগত ০৫ বছরে মাছের উৎপাদন ছিলো ৩৪.১০ (২০১২-১৩),৩৫.৪৮ (২০১৩-১৪), ৩৬.৮৪(২০১৪-১৫), ৩৮.৭৮ (২০১৫-১৬) এবং ৪১.৩৪ (২০১৬-১৭), লক্ষ মেট্রিক টন। অত্যান্ত আনন্দের বিষয়, ২০১৬-১৭ বছরের জন্য প্রক্ষেপিত ৪০.৫০ লক্ষ টনের লক্ষমাত্রাকে অতিক্রম করে অতিরিক্ত আরো প্রায় ১ লক্ষ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে এবং বাংলাদেশ এখন মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৮ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ মৎস্য আহরণে সারা বিশ্বের মাঝে ৩য় অবস্থান এবং মাছ উৎপাদনে ৫ম স্থান সগৌরবে দখল করে আছে। বাংলাদেশের ভৌগলিক পণ্য হিসাবে স্বীকৃত জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদনে অভাবনীয় সফলতা এসেছে, বিগত ০৫ বছরে কেবল ইলিশ মাছের উৎপাদন ছিলো ৩.৫১ (২০১২-১৩),৩.৮৫ (২০১৩-১৪), ৩.৮৭(২০১৪-১৫), ৩.৯৪ (২০১৫-১৬) এবং ৪.৯৬ (২০১৬-১৭), লক্ষ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উৎপাদিত হয়েছে ৫.২৫ লক্ষ মে. টন ইলিশ এবং মোট মাছের উৎপাদন ৪২.২৫ লক্ষ মে. টনে পৌঁছে গেছে। মাছ উৎপাদনের এ অব্যহত অগ্রযাত্রার স্বীকৃতি স্বরুপ মৎস্য অধিদপ্তরকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৩ এর স্বর্ণপদক দ্বারা অভিনন্দিত করা হয়েছে।